নিজস্ব প্রতিনিধি June 09, 2024
বিজয়ীদের অভিনন্দন: রাজনীতির সুন্দর শিষ্টাচার অধ্যাপক অপু উকিলের

অধ্যাপক অপু উকিল, মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা, মাওলানা হারুনুর রশিদ তালুকদার ফারুকী, সেলিনা বেগম সুমি। ছবি: সংগৃহীত

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের ৪র্থ ধাপের নির্বাচনে জনগনের রায়ে কেন্দুয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে যারা বিজয়ী হয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক অপু উকিল

বুধবার রাতে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার সকালে অপু উকিলের ফেসবুক আইডি থেকে তিনি নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো: মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা: হারুনুর রশিদ তালুকদার (ফারুকী) ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম সুমিকে অভিনন্দন জানান।

অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, তোমাদের বিজয়ে অভিনন্দন ও শুভকামনা জানাচ্ছি। আগামী দিন গুলো আরও আলোকিত হোক এ প্রত্যাশাও করেন তিনি। 

অধ্যাপক অপু উকিলের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে কেন্দুয়ার বিভিন্ন মহলে হচ্ছে মুখ রোচক আলোচনা। রাজনীতি নীতির রাজা এবং রাজনীতিতে শেষ বলতে কোন কথা নেই এভাবেই আলোচনা হচ্ছে। আর বিষয়টি এভাবে বিবেচনায় এনে গণতন্ত্রের সংজ্ঞাকে মেনে নিয়ে অধ্যাপক অপু উকিল বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেই আলোচনা হচ্ছে বেশি।

গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত হয় কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ঘোড়া প্রতীকে ৩৭ হাজার ০৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারী ভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন মো: মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা। তার নিকটতম প্রতিধন্ধী কাপ-পিরিচ প্রতীকে নূরুল আলম মো: জাহাঙ্গীর চৌধুরী পেয়েছেন ২৮ হাজার ৫৫৮ ভোট। এছাড়া আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী হুমায়ূন কবির চৌধুরী দোয়াত কলম প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৮৫ ভোট। মোটর সাইকেল প্রতীকে  সালমা আক্তার পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪৮৫ ভোট এবং আনারস প্রতীকে মো: মিজানুর রহমান মিজান পান ৪ হাজার ৯০০ ভোট। 

জানা যায়, গত ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মো: মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা, নূরুল আলম মো: জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও সালমা আক্তার প্রকৃত আওয়ামী ঘরানার লোক হলেও তিন জনের মধ্যে কেউই নৌকা মার্কার প্রার্থী অসীম কুমার উকিলের পক্ষে নির্বাচন করেননি। তারা ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টুর বিজয়ের পক্ষে।

অধ্যাপক অপু উকিল সেসব বিষয় পেছন ফেলে সুন্দর আগামীর লক্ষ্যে কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহব্বায়ক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক দুই বারের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মো: মোফাজ্জল হোসেন ভূঞাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই অভিনন্দন বার্তার ফলে বিভিন্ন মহলের মানুষের মুখে মুখে একটাই আলোচনা চলছে, অপু উকিল হিংসাত্বক রাজনীতি পেছন ফেলে উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হয়ে সুন্দর আগামীর পথে হেটে চলছেন বলেই নব নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানান।

অভিনন্দন বার্তায় তিনি নব নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান  মাওলানা হারুনুর রশিদ তালুকদার এবং দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা বেগম সুমিরও শুভকামনা ও আগামীর দিন গুলি আরও আলোকিত হোক এমনটাই প্রত্যাশা করছেন। অনেকেই বলছেন ধংসাত্বক ও গ্রæপিং রাজনীতি শুধু দলেরই ক্ষতি করে না ব্যক্তি জীবনেও অনেক কিছু বিনাশ করে তাকে। তাদের মতে নির্বাচনে একই দলের অনেকেই প্রার্থী হতে পারেন যেহেতু দলীয় কোন প্রতীক নেই বা এটি একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেই নির্বাচনকে উৎসব মুখর করতে দলের যে কেউ প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হলে তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো রাজনীতির একটি সুন্দর শিষ্টাচার।

এ শিষ্টাচারের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে সকলে মিলে একসাথে সুন্দর রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করে এক সাথে পথ চলা। অধ্যাপক অপু উকিল নব নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে এমটিই ইঙ্গিত করেছেন বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল নেতারা মন্তব্য করেছেন। সুন্দর হোক রাজনীতি, সুন্দর হোক এক সাথে মিলে আগমীর পথ চলা।

আরও পড়ুন: কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা

নিজস্ব প্রতিনিধি June 09, 2024

 

রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন ছাত্রনেতা মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা

মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা। ছবি: সংগৃহীত

 

ভোটের মাঠে রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা । এমনটিই বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সারাদিন আলোচনা চলছে সবার মুখে মুখে।

৫ জুন অনুষ্ঠিত কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিন হেভিওয়েট চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পরাজিত করে ৮ হাজার ৫১২ ভোট বেশি পেয়ে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা ৪র্থ ও ৫ম নির্বাচনে টানা দুইবারের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার ভাইস চেয়ারম্যান পদে থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে একটানা তিনটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন। 

জানা যায়, নিকটতম প্রতিদন্ধী প্রার্থী নূরুল আলম মো: জাহাঙ্গীর চৌধুরী কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের ১৭ বছরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং ১৪ নং মোজাফরপুর ইউনিয়ন পরিষদের তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তাঁর প্রয়াত বাবা হাদিস উদ্দিন চৌধুরী মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং গণপরিষদ সদস্য ছিলেন। সারা উপজেলায় তার ব্যাপক পরিচিতিও আছে।

এছাড়া আলোচনায় আছে, নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, বিশিষ্ট আওয়ামীলীগ নেতা সামছুল কবির খান সহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও নেতারা জাহাঙ্গীর চৌধুরীর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অকুন্ঠ সমর্থন দেন। তবুও জাহাঙ্গীর চৌধুরী পান কাপ পিরিচ প্রতীকে পান ২৮ হাজার ৫৫৮ ভোট। অর্থাৎ মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা জাহাঙ্গীর চৌধুরীর চেয়ে ৮ হাজার ৫১২ ভোট বেশি পান। 

হুমায়ূন কবির চৌধুরী ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও পাইকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তাকে অঘোষিত সমর্থন দেয় উপজেলা আওয়ামীলীগ।

এছাড়া নেত্রকোনা-৩ আসনের সাবেক এমপি অসীম কুমার উকিল, সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি অধ্যাপক অপু উকিল, আওয়ামীলীগ নেতা এডভোকেট আব্দুল মতিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণও হুমায়ূর চৌধুরীর পক্ষে মাঠে কাজ করেন। কিন্তু হুমায়ূন কবির চৌধুরী দোয়াত কলম প্রতীকে পান ২৫ হাজার ৮৮৫ ভোট। অর্থাৎ হুমায়ূন কবির চৌধুরীর চেয়ে ১১ হাজার ১৮৫ ভোট বেশি পান মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা।

মিসেস সালমা আক্তার কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক মহিলা সম্পাদিকা, ১১ নং চিরাং ইউনিয়ন পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং নেত্রকোনা জেলা পরিষদের সংরক্ষিত  (কেন্দুয়া-আটপাড়া) এলাকার সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

আলোচনায় আছে, প্রচুর অর্থবিত্তের মালিকও তিনি। ভোটের মাঠে সালমা আক্তার প্রচুর অর্থ বিলিয়েছেন বলেও গুঞ্জন আছে। তাছাড়া নারী প্রার্থী হিসাবে নারী ভোটারদের সহানুভুতি ভোটও পেয়েছেন তিনি। তার সমর্থনেও বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের সমর্থন ছিল। কিন্তু মোটর সাইকেল প্রতীকে তিনি পান ২৫ হাজার ৪৬৫ ভোট। অর্থাৎ সালমা আক্তারের চেয়ে ১১ হাজার ৬০৫ ভোট বেশি পান মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা।

অনেকেই বলছেন এমন নির্বাচনী ফলাফল কেন্দুয়াতে আর দেখিনি। এটি কেন্দুয়ার নতুন ইতিহাস। নির্বাচনী ফলাফলের মাধ্যমে উপজেলা বাসীকে তাক লাগিয়ে অবাক করে দিয়েছেন মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা। কী এমন জাদু ছিল মোফাজ্জল হোসেন ভূঞার কাছে?

এ প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে তার কর্মী সমর্থকরা দাবী করে বলেন, মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা আমাদেরকে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারেননি। তিনি আমাদের সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন। যখনই আমরা তার স্মরনাপন্ন হয়েছি, সেটি রাতই হোক আর দিনই হোক তখনই তাকে আমরা পেয়েছি।

তিনি নির্ভয়ে আমাদের পাশে দাড়িয়েছে। গত দশ বছর ধরে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। এই পদে থেকে কোনদিন আমাদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেননি। তাই আমরা কারও বা কোন নেতার কথা না শুনে আমাদের প্রিয় মানুষ মোফাজ্জল হোসেন ভূঞাকেই উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে ভোট দিয়েছি। 
নির্বাচিত হওয়ার পর মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা তার প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি। অতীতে যারা আমাকে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন তাদেরকে আমি কিছুই দিতে পারিনি। কিন্তু আমি তাদের অকাতরে ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়েছি। কোনদিন তাদের মিথ্যা আশ্বাস দেইনি।

মোফাজ্জল হোসেন বলেন, উপজেলায়  ১৩টি ইউনিয়নে ও পৌর এলাকায় যেসব ব্যক্তি এই দশ বছরে মৃত্যু বরণ করেছেন আমার জানামতে সব জানাযাতেই, অন্তেষ্টীক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেছি। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেছি এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছি। মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা আমার ছিল, আছে এবং থাকবে। তিনি বলেন, আমার ঘোড়ার দৌড় একানেই শেষ নয়।

নিজস্ব প্রতিনিধি June 09, 2024

মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা, মাওলানা হারুনুর রশিদ তালুকদার ফারুকী, সেলিনা আক্তার সুমি। ছবি: সংগৃহীত মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা, মাওলানা হারুনুর রশিদ তালুকদার ফারুকী, সেলিনা আক্তার সুমি। ছবি: সংগৃহীত

 

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। 

বুধবার (৫ জুন) ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমদাদুল হক তালুকদার।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্রনেতা ও দুইবারের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া ঘোড়া প্রতীকে ৩৭০৭০ ভোট পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। 

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নূরে আলম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর চৌধুরী। তিনি কাপ পিরিচ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৮৫৫০। 

এছাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা আ'লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবীর চৌধুরী দোয়াত কলম প্রতীকে ২৫৮৮৫ ভোট, উপজেলা মহিলা আ'লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যন সালমা আক্তার মোটরসাইকেল প্রতীকে ২৫৪৬৫ ভোট এবং জেলা আ'লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বিশিষ্ট্য শিল্প উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান মিজান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪৯৩০ ভোট।

এদিকে টিউবওয়েল প্রতীকে বিপুল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা ওলামা পরিষদ নেতা মাওলানা হারুনুর রশিদ তালুকদার ফারুকী। 

তিনি ৭৭০৮৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী তরুন আওয়ামীলীগ নেতা ও ফুটলার মামুনুল কবির খান হলি তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৪২৩৫৫ ভোট এবং চশমা প্রতীকে ইয়হিয়া খান শামীম পেয়েছেন ২৭৪০ ভোট। 

অপর দিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে যুবমহিলালীগ নেত্রী সেলিনা বেগম সুমি টানা দুইবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯৬৭৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ফাতেমা বেগম পদ্মফুল প্রতীকে পেয়েছেন ২৮৮৫২ ভোট। 

এছাড়া সৈয়দা স্মৃতি আকতার শাপলা বৈদ্যতিক পাকা প্রতীতে ১৬৭৩৪, উপজেলা মহিলা আ'লীগ সভাপতি মিনা আক্তার প্রজাপতি প্রতীকে ১৬০৮৯ এবং যুবমহিলালীগ নেত্রী সোমা আকতার কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫৩৪ ভোট।

আবাধ, সুষ্ঠু,সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লীষ্টজনদের প্রশংসা করেছেন অনেকেই।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 22, 2024
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দুয়ায় তিন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এক জন চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী ও দুই জন ভাইস চেয়ারম্যন পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী রবিবার (১৯ মে) ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। 

এ দিন চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে কেন্দুয়া পৌর যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  মোতাসিম বিল্লাহ এবং যুবলীগ নেতা ইয়ার খান প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোট ছয়জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন প্রার্থী এবং ছয় জন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এরমধ্যে ১২ মে   মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ে চেয়ারম্যান পদে ছয়জন এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচ জনের প্রার্থিতা বৈধতা পায়। চেয়ারম্যান পদে বৈধ প্রার্থীর ৬ জনই সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ পন্থি, ভাইস চেয়ারম্যান পদে একজন বিএনপি পন্থি,  দুই জন আওয়ামী পন্থী ও বাকী দুইজন  রয়েছেন অরাজনৈতিক। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে চার জন আওয়ামী পন্থী ও একজন অরাজনৈতিক। 

মনোনয়ন বাতিল হওয়া একমাত্র মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী  সৈয়দা স্মৃতি আক্তার শাপলা প্রার্থিতা ফেরত পেতে আপিল করেও তার বৈধতা মেলেনি।

এ উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান পদে সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন পাঁচজন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ পন্থি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,মোজাফরপুর ইউনিয়নের সাবেক তিন বারের চেয়ারম্যান  নুরুল আলম মো: জাহাঙ্গীর চৌধুরী, জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও চিরাং ইউনিয়নের সাবেক দুই বারের চেয়ারম্যান সালমা আক্তার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক দুই বারের ভাইস চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন ভূঞা, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, পাইকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সম্মানিত সদস্য মিজানুর রহমান।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্ত ৩ প্রার্থী  হলেন  উপজেলার চিরাং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র, কেন্দুয়া উপজেলা শাখা ও মানবাধিকার কর্মী মামুনুল কবীর খান,উপজেলা উলামা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা  হারুনুর রশিদ তালুকদার এবং অব. সার্জেন্ট মো: ইয়াহিয়া খান।

আর মহিলা ভাইস চেয়াম্যান পদে চূড়ান্ত ৫ প্রার্থী  হলেন  বর্তমান ভাইস-চেয়াম্যান ও উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষক সেলিনা বেগম, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা রোজী, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসা: মিনাআক্তার, মোছা: ফাতেমা বেগম, যুবমহিলা লীগ নেত্রী সুমি আক্তার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার   জানান, আজ চেয়ারম্যান পদে  একজন চেয়ারম্যান,  একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও একজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেছেন।   চূড়ান্ত তালিকায় চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন  ও  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়াও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষে সকল প্রকার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানা যায়, কেন্দুয়া  উপজেলায় ১৩ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা মিলিয়ে ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৩২ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩৯৪২৪, মহিলা ভোটার ১৩২৮৯৪ ও হিজড়া ভোটার ০৬ জন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, চতুর্থ  ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ ২০ মে আর ভোটগ্রহণ হবে ৫ জুন।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 12, 2024
ফলাফলে শিক্ষার্থীদের উল্লাস। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা, ১২ মে
ফলাফলে শিক্ষার্থীদের উল্লাস। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা, ১২ মেছবি: খালেদ সরকার

২০২৪ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ শিক্ষার্থী।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ৯৮ হাজার ৭৭৬ জন। ছাত্র ৮৩ হাজার ৩৫৩ জন।

এবারের এসএসসি-সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আজ রোববার প্রকাশ করা হয়েছে। এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৮৩ দশমিক শূন্য ৪।

আজ সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফলাফলের তথ্য তুলে দেওয়া হয়। সেখানেই তিনি ফলাফল প্রকাশ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বেলা ১১টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনলাইনেও ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়েছিল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ১২ মার্চ। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৩ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।

১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এ বছর ২০ লাখ ২৪ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ৬ হাজার ৮৭৯ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৪২ হাজার ৩১৪ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৩৭৩ জন। 

রেজাল্ট দেখতে ক্লিক- রেজাল্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন থেকে আয়
প্রায়ই স্টুডেন্ট তাদের স্টুডেন্ট লাইফে ছোটখাটো স্বপ্ন গুলোকে পূরণ করতে পারেনা পকেট এ এক্সট্রা টাকা না থাকার কারণে ।

আফটার অল ফ্যামিলি থেকে আর কত সাপোর্ট দিবে তারা পড়াশোনার খরচ দিচ্ছে , থাকা খাওয়ার খরচ দিচ্ছে , পোশাক কেনার খরচ দিচ্ছে এমনকি টুকটাক পকেট খরচে ও টাকা দিচ্ছে , বর্তমান যে যুগে আমরা বসবাস করতেছি ওই পকেটমানি দিয়ে চলা সম্ভব না ।

আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন এই ধরনের সিচুয়েশন ফেস করতেছেন । চিন্তার কোন কারণ নেই আজকের এই লেখাটির শেষ পর্যন্ত পড়ুন ।
আমি আপনার জন্য একটি-দুটি নয় ,পাঁচটি উপায় বলব এগুলোর একটিও যদি আপনি সঠিক ব্যবহার করে থাকেন পড়াশোনার পাশাপাশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন । যেটা দ্বারা আপনি আপনার স্বপ্ন গুলোকে পূরণ করতে পারবেন ।

তাহলে চলুন পড়াশোনা করার পাশাপাশি কি কি উপায় অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করা যায় সেই বিষয় জেনে নেই ।

১/ ব্লগিং (পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন থেকে আয়)


আপনি একটা ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করে লেখালেখি করার মাধ্যমেও গুগল অ্যাডসেন্স দিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারেন । 
আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমিতো কোন কিছু জানিনা কি বিষয় নিয়ে লেখালেখি করব আমার তো কোন স্কিল নেই । লেখালেখি করার জন্য কোন স্কেল এর প্রয়োজন হয় না । 

আপনি যে বিষয়টি জানেন সে বিষয় নিয়ে লিখতে শুরু করুন । যদি আপনি বই পড়তে ভালবাসেন বা কোন কোন বই আপনার ভালো লেগেছে সেই সব বিষয় নিয়েও লিখতে পারেন । অথবা আপনি যদি ঘুরতে ভালোবাসেন বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান আছে সেগুলো নিয়েও লিখতে পারেন ।

 এছাড়াও বিভিন্ন ফুড আইটেম নিয়েও লেখালেখি করতে পারেন ।
এগুলা বাদেও আপনার জানা অনেক বিষয় আছে যেগুলো আপনি একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন যে আপনি কোন কোন বিষয়ে জানেন এবং কোন কোন বিষয় নিয়ে লিখবেন ।

২/ ইউটিউবিং (পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন থেকে আয়)


ইউটিউবে একটি চ্যানেল তৈরি করে ভিডিও আপলোড করতে পারেন । আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু জানি , এন্ড্রয়েড ফোন কিভাবে ব্যবহার করতে হয় আমরা কিন্তু সবাই জানি এন্ড্রয়েড ফোনের বিভিন্ন অ্যাপস এবং বিভিন্ন টিপস এন্ড ট্রিকস মানুষকে পরামর্শ দেয়া এইসব বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করে । অথবা আপনার যে বিষয়টি ভালো লাগে সে বিষয়টি উপর ভিডিও তৈরি করতে পারেন ভিডিও তৈরি করে আপনার চ্যানেলে আপলোড করুন ।

 আপনার এই ভিডিওগুলো যখন ভিউ হবে তখন বিভিন্ন উপায়ে আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম করতে পারবেন । এখন কে না জানে আমরা প্রত্যেকেই ইউটিউব সম্পর্কে কমবেশি জানি । আপনার পড়াশোনার পাশাপাশি আপনার যে বিষয়টি ভালো লাগে সেই বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করে আপনার চ্যানেলে আপলোড করতে পারেন । এইভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনি ভালো একটা ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন ।

৩/ গ্রাফিক ডিজাইন (পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন থেকে আয়)


এটি এমন একটি পেশা যেটি ডিমান্ড দিন দিন বাড়তেছে । তাই আপনি চাইলে পড়াশোনার পাশাপাশি ফটোশপ এর ব্যবহার শিখে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করতে পারেন । বর্তমান অনলাইন মার্কেটপ্লেসে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার প্রচুর ডিমান্ড । তাই আপনি গ্রাফিক ডিজাইনার হয়েও অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন ।

এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন কোম্পানি চালু করতেছে । এইসব সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর তাদের ব্যানার লোগো ইত্যাদি বিষয়ে সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন হয় । তাই আপনি লেখাপড়ার পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে নিতে পারেন । সেটা দ্বারা অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে পারেন

৪/ ভিডিও এডিটিং (পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন থেকে আয়)


ভিডিও এডিটিং বর্তমান সময় প্রচুর চাহিদা । অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে ভিডিও এডিটিং এর সার্ভিস দেওয়ার মাধ্যমে আপনি আলাদা একটি আর্নিং করতে পারেন পড়াশোনার পাশাপাশি । এছাড়াও বর্তমানে ইউটিউব এর যুগ লক্ষ-কোটি চ্যানেল আছে । অনেক চ্যানেল আছে যারা ভিডিও এডিটর নিয়োগ দিয়ে থাকে ।

আপনি চাইলেও ভিডিও এডিটিং স্কিল ডেভেলপ করে অনলাইনে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসগুলোতে কাজ করতে পারেন যার মাধ্যমে খুব ভালো পরিমাণ একটা ইনকাম জেনারেট করতে পারবেন ।

৫/ ফটোগ্রাফি (পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইন থেকে আয়)


 ফটোগ্রাফি করার মাধ্যমে ভালো মানের একটি সাইট ইনকাম করতে পারবেন । বর্তমান সময়ে দেখবেন বিয়ে বার্থডে পার্টি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে ফটোগ্রাফি প্রয়োজন হয় । এছাড়াও আপনি ফ্রীল্যান্স ফটোগ্রাফি হিসেবেও কাজ করতে পারেন । ফটোগ্রাফি একটি ক্রিটিভ প্রফেশন এবং এটি অনেক ডিমান্ডেবল প্রফেশন । মানুষ তাদের বিশেষ মুহুর্তগুলোকে ক্যামেরা বন্দি করে রেখে দিতে চায় স্মৃতি হিসেবে । এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ । এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে সুন্দর সুন্দর ছবি আপলোড দেওয়ার জন্য ফটোগ্রাফারদের খুঁজে থাকে ।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
ক্রিপ্টো দুনিয়ার হাঁড়ির খবর

ক্রিপ্টোগ্রাফি আদতে গ্রিক শব্দ ‘ক্রিপ্টোস’ থেকে এসেছে, যার অর্থ গোপনীয়তার চর্চা

“তোমার গোপন কথাটি, সখী, রেখোনা মনে” এই জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীত অনেকের মতো আমারও খুব প্রিয় গান। তবে আজকের ডিজিটাল দুনিয়ায় এই গানকে কেউ যদি জীবনের মূলমন্ত্র করে নেন, তবে তাঁর পক্ষে জীবনে পথ চলায় সমূহ বিপদ। কেন বলছি এ কথা? আজকের স্মার্ট জগতে অ্যান্ড্রয়েড স্ক্রিনলক কিম্বা এটিএম সব কিছুই কতগুলি বৈজ্ঞানিক সংকেতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এ দিকে আমাদের আশেপাশে তথাকথিত শিক্ষিত ডিগ্রিধারীদের মাঝেই কিছু অসৎ ব্যক্তি মুখিয়ে আছে  কোনও রকমে এই সব সংকেতের হদিশ পেয়ে আমাদেরকে সর্বস্বান্ত করার জন্য। অনেক সময়ই আমরা শুনি, কিছু মানুষ ভুয়ো পরিচয় দেওয়া  অজ্ঞাত  ব্যক্তিকে বিশ্বাস করে ওটিপি বলে দেওয়ার ফলে নিমেষে রীতিমতো ফকির হয়েছেন, কারোর ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছে। ইদানীং আরও ভয়ানক কিছু ঘটনা ঘটছে, ফোনে বিভিন্ন সংস্থার নামে ভুয়ো মেসেজ পাঠানো আদতে জালিয়াতির প্রথম ফাঁদে, পরদিন কাগজে হেডলাইন এক ক্লিকে লক্ষাধিক অর্থ গায়েব। তা এই গোপন সংকেতের প্রচলনই বা কবে হল? কেনই বা হল? আর আজই বা সাংকেতিক বার্তার প্রেক্ষাপট বা ব্যবহারের ধরন কী রকম?

ক্রিপ্টো দুনিয়ার হাঁড়ির খবর

শেয়ার কেনাবেচা চলছে স্টক মার্কেটে

ঐতিহাসিক নিদর্শন বলছে, স্পার্টাদের স্কাইটেলের মাধ্যমে প্রথম সাংকেতিক বার্তার ব্যবহারিক প্রয়োগ ঘটে। স্কাইটেলে অর্থাৎ খাঁজকাটা কাঠের টুকরোয় প্রথমে ফিতের মতো করে একটি কাগজ জড়িয়ে তাতে বামদিক থেকে ডানদিকে একটি অর্থবহ বাক্য লেখা হত। তারপর কাগজটি খুলে নিলেই শব্দগুলো ও অক্ষরগুলো অবিন্যস্ত হয়ে যেত, ফলে সহজেই সংকেতের উদ্ধার সম্ভব হতনা। এরপর মিশরীয় হায়রোগ্লিফস বা ক্লে ট্যাবলেট, অনেক কিছুতেই সাংকেতিক বার্তা প্রেরণের নিদর্শন মিলেছে। মোম মাখানো কাঠের ট্যাবলেটে গোপন বার্তা পাঠিয়ে পারস্যের রাজা জেরেক্সেসের সম্ভাব্য আক্রমণ স্তিমিত করে দিয়েছিলেন ডেমারেটাস নামক একজন গ্রিক, যিনি এককালে চুরির দায়ে দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। আজকের যুগে এই দেশপ্রেম ও বিরল। গ্রিক রাজা হিস্টাইরাসের আমলে প্রথমে বার্তাবাহকের নেড়া মাথায় বার্তা লিখে চুল গজালে তারপর তাকে পাঠানো হত, যা আজকের দিনে অনেকটাই বোকামি, সময়ের নিরিখে। ক্যাপসুলের আড়ালে মসলিনে লেখা চিনা বার্তা কিংবা আরবীয়দের পলিঅ্যালফাবেটিক সাইফার অর্থাৎ বহুবর্ণী সাংকেতিক লিখন প্রণালী কিংবা রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের প্রবর্তিত সেই বিখ্যাত সিজার সাইফার (যেখানে বার্তার প্রতিটি অক্ষরকে ইংরেজি বর্ণমালা অনুযায়ী ঠিক তার পরবর্তী তৃতীয় অক্ষর দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা হত) সবই ক্রিপ্টোগ্রাফিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। সাইফার হচ্ছে আসল বার্তার সাংকেতিক রূপ। ক্রিপ্টোগ্রাফি আদতে গ্রিক শব্দ ‘ক্রিপ্টোস’ থেকে এসেছে, যার অর্থ গোপনীয়তার চর্চা। এবার প্রশ্ন হল গোপনীয়তা কিভাবে বজায় রাখব? ধরুন, আপনি আপনার বন্ধুকে ‘গুগল পে’র মাধ্যমে একশো টাকা পাঠাতে গিয়ে দেখলেন, আপনারই অ্যাকাউন্ট কোনও ভাবে হ্যাক করা হল, বা নেটওয়ার্ক জনিত সমস্যায় আপনারই অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচশো টাকা কেউ তুলে নিল। কী ভাবে হল এই অসাধ্য সাধন? আপনার  বা আপনার বন্ধুর এই যোগাযোগের মাধ্যমে মুকুলের সেই কোনও এক ‘দুষ্টু লোক’ আড়ি পেতে বসেছিল, সুযোগ বুঝে মাঠে নামতেই আপনার টাকা ‘ভ্যানিশ’।

ক্রিপ্টো দুনিয়ার হাঁড়ির খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানদের ব্যবহৃত এনিগমা মেশিন

আপনি ভাবছেন, ধুর বাজে কথা বলার জায়গা পায়নি, ‘গুগল পে’তে এসব জোচ্চুরি হয় না। মানলাম, তাই বলে কোথাও কোনও মাধ্যমে এই তৃতীয় অবাঞ্ছিত ব্যক্তি বসে নেই, এটাতো গ্রহনযোগ্য নয় মোটেই। তাই আপনাকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। আজ থেকে কতদিন আগে একটি বিশ্বযুদ্ধে এই ক্রিপ্টোগ্রাফি নামক শাখার ব্যবহার সারা দুনিয়াকে চমকে দিয়েছিল, যা নিয়ে আজও আলোচনা খুব কমই শোনা যায়। বোমা, লাঠি, মারদাঙ্গার বাইরের পৃথিবীতে মস্তিষ্কের উপযোগী প্রয়োগ সবচেয়ে জরুরি। এ ক্ষেত্রে জার্মান এনিগমা মেশিনের উল্লেখ না করলে বড়ো অন্যায় হবে। আর্থার শার্বিয়াস নামের এক ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোকের দ্বারা টাইপরাইটারের আদলে তৈরি এই এনিগমা যন্ত্র। যন্ত্রে থাকা তিন থেকে পাঁচটি রোটরের চাকতিকে ইংরেজি বর্ণমালার প্রত্যেক অক্ষরের সাপেক্ষে ২৬টি ধাপ ঘোরানো যেত, ঘড়ির কাঁটার সাথে এর যথেষ্ট সাদৃশ্য ছিল। দুর্বোধ্য কোড বানিয়ে নাৎসিদের বার্তা প্রেরণের কৌশল এবং অ্যালান টুরিং নামক এক যুগপুরুষ কর্তৃক এই এনিগমা কোডের পঞ্চত্বপ্রাপ্তি, এগুলো আজ কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছে। (চলবে)

চিত্রসৌজন্য:  https://pixabay.com

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024

 

বিকাশ ক্যাশ আউটের সুবিধা বেড়ে ডাবল

বিকাশ ক্যাশ আউটের সুবিধা বেড়ে ডাবল

হাজারে ১৪.৯০ টাকায়, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্যাশ আউট করুন ২টি প্রিয় এজেন্ট নাম্বার থেকে! বিকাশ-এ এখন কম খরচে ক্যাশ আউটের সুবিধা ডাবল! এখন একটি ক্যালেন্ডার মাসে একজন গ্রাহক যেকোনো ২টি এজেন্ট নাম্বারকে প্রিয় এজেন্ট নাম্বার হিসেবে সেট করতে পারবেন আর ক্যাশ আউট করতে পারবেন ১.৪৯% চার্জে প্রতি মাসে, ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত!

  • একজন গ্রাহক এক ক্যালেন্ডার মাসে ক্যাশ আউটের জন্য প্রিয় এজেন্ট নাম্বার হিসেবে যেকোনো ২টি বিকাশ এজেন্ট নাম্বার বেছে নিতে পারবেন এবং একজন গ্রাহকের যেকোনো মুহূর্তে সর্বোচ্চ ২টি প্রিয় এজেন্ট নাম্বার থাকতে পারে।
  • গ্রাহক প্রিয় এজেন্ট নাম্বার থেকে ১.৪৯% চার্জে ক্যাশ আউট করতে পারবেন।
  • ১.৪৯% ক্যাশ আউট চার্জ একটি ক্যালেন্ডার মাসে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত প্রযোজ্য।
  • ২টি প্রিয় এজেন্ট নাম্বারই যদি প্রথমবার যোগ করা হয়, সেক্ষেত্রে গ্রাহকরা উক্ত ক্যালেন্ডার মাসের মধ্যে কোনো প্রিয় এজেন্ট নাম্বার পরিবর্তন করতে পারবেন না। পরবর্তী ক্যালেন্ডার মাস থেকে, গ্রাহক প্রথমে সেভ করা প্রিয় এজেন্ট নাম্বার বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ২টি প্রিয় এজেন্ট নাম্বার পরিবর্তন করতে পারবেন।তবে, যদি ইতোমধ্যে ১টি প্রিয় এজেন্ট নাম্বার যোগ করা থাকে, তবে গ্রাহক যেকোন ক্যালেন্ডার মাসে আরও একটি যোগ করতে এবং পূর্বেরটি পরিবর্তন করতে পারবেন।
  • গ্রাহক *247# এবং বিকাশ অ্যাপ উভয়ের মাধ্যমে প্রিয় এজেন্ট নাম্বার যোগ/বাদ দিতে পারবেন
  • গ্রাহক *247# এবং বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রিয় এজেন্ট নাম্বার চেক করতে পারবেন
  • গ্রাহক *247# এবং বিকাশ অ্যাপ উভয়ের মাধ্যমে ১.৪৯% ক্যাশ আউট চার্জের জন্য প্রযোজ্য লিমিট বা অবশিষ্ট পরিমাণ দেখতে পারবেন
  • যদি কোনো ক্যাশ আউট লেনদেন ৫০,০০০ টাকার লিমিট অতিক্রম করে, তাহলে সেই লেনদেনের পরিমাণের জন্য ১.৮৫% ক্যাশ আউট চার্জ প্রযোজ্য হবে এবং প্রিয় এজেন্ট ক্যাশ আউট লিমিট ব্যবহার হয়ে যাবে।

উদাহরণ: একজন গ্রাহক ইতোমধ্যে এক মাসে তার প্রিয় এজেন্ট নাম্বার থেকে ৪৯,৫০০ টাকার ক্যাশ আউট লেনদেন করেছেন। এখন, তিনি যদি প্রিয় এজেন্ট নাম্বার থেকে ৬০০ টাকা (মোট ৫০,১০০ টাকা) ক্যাশ আউট করতে চান, তাহলে ১.৮৫% ক্যাশ আউট চার্জ প্রযোজ্য হবে এবং প্রিয় এজেন্ট ক্যাশ আউট লিমিট খরচ হবে।

কম খরচে ক্যাশ আউট করার সহজ নিয়মঃ
প্রিয় এজেন্ট নাম্বার সেট করুন;
ক্যাশ আউট করার আগে প্রিয় এজেন্ট নাম্বারে লিমিটের কত বাকি আছে তা দেখে নিন;
প্রিয় এজেন্ট নাম্বারে লিমিটের বাকি অংশ আগে ক্যাশ আউট করে নিন।

প্রিয় নাম্বার ছাড়া অন্য যেকোনো এজেন্ট নাম্বার থেকে ক্যাশ আউট
প্রিয় এজেন্ট নাম্বার ছাড়া যেকোনো এজেন্ট নাম্বার থেকে অ্যাপ এবং *247# ডায়াল করে উভয় মাধ্যমে ক্যাশ আউটের ক্ষেত্রে ১.৮৫% চার্জ প্রযোজ্য হবে।
অ্যাপ এবং *247# ডায়াল করে উভয় চ্যানেলের জন্য প্রযোজ্য।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
কেন্দুয়ায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রাইম ডিজিটাল ইনস্টিটিউটে (বিএম কলেজ)। ছবি: সংগৃহিত

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজার সংলগ্ন প্রাইম ডিজিটাল ইনস্টিটিউটে (বিএম কলেজ) আয়াপদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মুছলেহার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় রামনগর গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী আয়শা খাতুন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বরাতে জানা গেছে, ২০১৪ সালে আয়শা খাতুনকে আয়াপদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে কাজে যোগদান করান প্রাইম ডিজিটাল ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মুছলেহা। একপর্যায়ে নিয়োগ সম্পন্ন করার কথা বলে অধ্যক্ষ  আয়শা খাতুনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি নেন এবং এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ধারদেনা করে অধ্যক্ষকে ৬০ হাজার টাকা দেন এবং বাকী টাকা কিছু দিন পরে দিবেন বললে অধ্যক্ষ তা মেনে নেন।

এদিকে গত ৬ মাস আগে হঠাৎ করে আয়শা খাতুনকে কাজে না আসার জন্য নিষেধ করেন অধ্যক্ষ মুছলেহা। নিষেধ করার কারণ জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আয়শা খাতুনকে বলেন, বয়স বেশি হয়ে গেছে। তাই আয়াপদে নিয়োগ হবে না। এ সময় অধ্যক্ষ মুছলেহা তাকে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেন এবং তার ভবিষ্যত গড়ে দিবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সম্প্রতি আয়শা খাতুন অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ দুর দুর করে তাড়িয়ে দেন।

আয়শা খাতুন বলেন, আমার কোনো সন্তানাদি নাই। স্বামী আরেক বিয়ে করে সংসার করছে। আমি বর্তমানে খুবই একা ও অসহায়। চাকরি পাওয়ার আশায় ৯ বছর বিনা বেতনে কাজ করেছি। ধারদেনা করে ৬০ হাজার টাকাও দিয়েছি। এখন তারা আমাকে হঠাৎ কলেজ থেকে বের করে দিয়েছে। অনেক টাকার বিনিময়ে আমার পরিবর্তে আরেকজনকে নিয়েও নিয়েছে। আমার সাথে অধ্যক্ষ মুছলেহা প্রতারণা করেছে। তাই আমি গত ২৭ মার্চ ইউএনও স্যারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। ৯ বছর বিনা বেতনে কাজ করার ক্ষতিপূরণসহ আমি আমার ৬০ হাজার টাকা ফেরত চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা শামছুল আলম তমাল ও আজিবুর রহমান বলেন, আমরা জানি আয়শা খাতুন দীর্ঘ বছর যাবত প্রাইম ডিজিটাল ইনস্টিটিউটে আয়াপদে চাকরি করেন। কিন্তু এখন শুনছি তাকে নাকি চাকরি না দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দিয়েছে। বিষয়টা ঠিক হয়নি। এটা খুবই অমানবিক।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মুছলেহা বলেন, আয়শা খাতুনের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি এবং তার বয়স বেশি হওয়ায় আয়াপদে নিয়োগ হবে না- এটা আমি তাকে শুরুতেই বলেছি। তাকে যতদিন কাজ করিয়েছি, বিনিময়ে টাকাও দিয়েছি। তবুও তিনি আমার বিরুদ্ধে অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইমদাদুল হক তালুকদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে আমি নিজেই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
কেন্দুয়ায় ১৪শ হাঁসের বাচ্চা মারল দুর্বৃত্তরা, Kendua.com

কেন্দুয়ায় ১৪শ হাঁসের বাচ্চা মারল দুর্বৃত্তরা

 

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় রাতের আঁধারে বকুল মিয়া নামে এক খামারির ১৪০০ হাঁসের বাচ্চা মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। শনিবার (২০ এপ্রিল) সকালের দিকে উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের বাড়লা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খামারী বকুল মিয়া বলেন, আমি রাতে হাঁসের সব বাচ্চাগুলোকে সুস্থ দেখে এসেছি। সকালে খামারে গিয়ে দেখি কে বা কারা আমার ১৪০০ হাঁসের বাচ্চা মেরে ফেলেছে।

তিনি বলেন, আমার সাথে কারো কোন শত্রুতা নেই। কিন্তু কারা এই কাজটি করল বুঝতে পারছি না। এতে আমার অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। এখন আমার সংসার চালানো অনেক কঠিন হয়ে পরবে। আমি এব্যাপারে থানায় অভিযোগ দাখিল করব।

পাইকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসলাম উদ্দিন বলেন, এমন ঘটনা খুবই দু:খজনক। আমি চাই যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের উপযুক্ত বিচার হোক।

কেন্দুয়া থানার পেমই তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী খামারী থানায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
মদনে মাছ ধরা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-৪

মদনে মাছ ধরা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-৪

 

নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলা ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের যাত্রাখালী খালের ডোবায় মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে সবুজ (১০) নামের এক শিশু নিহত এবং আরো ৪ জন আহত হয়েছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে নেত্রকোণা জেলার মদন উপজেলা ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের যাত্রাখালী খালের পাড়ে।

নিহত সবুজের দাদা ইব্রাহিম মুন্সী বলেন, যাত্রাখালী খালের পাশে আমাদের পারিবারিক একটি ডোবা গত বছর একই গ্রামের হিরন এর কাছে এক বছরের জন্য লিজ দিয়েছিলাম। 

গত কার্তিক মাসে এই সময় সীমা শেষ হয়ে যায়। হিরণ ও তার লোকজন শুক্রবার দুপুরে আমাদের ডোবা সেচে মাছ ধরা শুরু করে। আমরা বাঁধা দিতে গেলে হিরনের লোকজন আমাদের উপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। 

প্রতিপক্ষের হামলায় আমার নাতি সবুজ ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। নিহত সবুজ ফতেপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের আশেক মিয়ার ছেলে। হামলায় আরো চার জন আহত হয়। আহতরা হলেন, আশেক ( ৪০), হেকিম (৪৫), সোলেমান (২০) ও হৃদয় ( ৩০)।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ঘটনার সাথে জড়িত মল্লিক (৫০), আনচু মিয়া (৬০), চাঁন মিয়া (৪৫)সহ পাঁচ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। 

এ ব্যাপারে মদন থানার অফিসার ইনচার্জ উজ্জ্বল কান্তি সরকারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিপক্ষের হামলায় শিশু নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। 

শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় হঠাৎ ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে পাকা ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রবিবার ভোর ৪টার দিকে উপজেলার কুল্লাগড়া, দুগার্পুর সদর, গাওকান্দিয়া, চন্ডিগড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ মৌসুমে এমন শিলাবৃষ্টি পড়তে কখনো দেখেননি বলে জানান স্থানীয় কৃষকগণ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশিরভাগ জমির ধান কাটার উপযুক্ত হয়ে গেছে তবে শ্রমিক বা ধান কাটার মেশিন সংকটে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। গত রাতে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ধানের শিষ থেকে বেশিরভাগই ধান ঝরে গেছে। জমির পাকা ধানগুলো ঘরে তোলার আগেই শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে এমন ক্ষতি যেনো কৃষকদের মুখে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। তাছাড়া এই শিলাবৃষ্টিতে মৌসুমি ফল ও গাছেরও ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।


 

কুড়ালিয়া গ্রামের কৃষক মোশারফ হোসেন বলেন, আমি ১৭ কাটা জমি লাগিয়েছিলাম কিন্তু ভাইরাসের জন্য ৭ কাটা কেটে ফেলি। সেই ৭ কাটায় ১০ মণ ধান পেয়েছি মাত্র। বাকি ১০ কাটা জমির পাকা ধান গতরাতে শিলাবৃষ্টিতে ঝরে গেছে। কয়েকদিন ধরেই কাটার জন্য চেষ্টা করছিলাম কিন্তু মেশিন পাচ্ছিলাম না। 
 

এ নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন,এ পর্যন্ত ৪৫% জমির ধান কর্তন হয়েছে। তবে হঠাৎ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানতে অফিসের লোকজন মাঠে আছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরে জানাতে পারবো।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
সন্ধ্যা নামলেই এলইডির তীব্র আলো ঘটছে দুর্ঘটনা: চোখের মারাত্মক ক্ষতি

সন্ধ্যা নামলেই এলইডির তীব্র আলো ঘটছে দুর্ঘটনা : চোখের মারাত্মক ক্ষতি

 

রিকশা-ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ নিষিদ্ধ যানবাহনের হেডলাইট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধিক উজ্জ্বল ও সাদা আলোর এলইডি লাইট। যা একটু কাঁপলেই অপরদিকে থাকা যানবাহন চালকসহ পথচারীদের চোখ ঝাঁপসা করতে যতেষ্ঠ। মুহুর্তে যেনো সব অন্ধ। আর  এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এমনটাই নিত্যচিত্র এখন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার আঞ্চলিক সড়ক, মহাসড়কসহ গ্রামীণ সড়কের।

উপজেলা প্রশাসন কিংবা পৌরসভার উদ্যোগেও নেয়া হয়না এসব নিষিদ্ধ লাইটের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ। ফলে যে যার মতো যেকোনো যানবাহনে ব্যবহার করছে ক্ষতিকারক এই এলইডি লাইট।

চক্ষু চিকিৎসকদের মতে, সহনীয় মাত্রার বেশি আলোকরশ্মি উৎপন্ন করায় এলইডি লাইট সরাসরি চোখের রেটিনায় আঘাত করে। এতে কর্নিয়াসহ দৃষ্টি শক্তির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

জানা যায়, বর্তমানে দুর্ঘটনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত নছিমন, করিমন ও পাগলু গাড়ির সাদা লাইটের আলো। অবৈধ যান হিসেবে খ্যাত এসব যানবাহনের হেডলাইটের সাদা আলোয় চলাচল করতে চরম সমস্যা হচ্ছে পথচারীদের। প্রতিদিন একটু সন্ধ্যা হলেই অবৈধ যানের চালকেরা তাদের সুবিধার্থে এলইডি লাইট জ্বালিয়ে সড়কে চলাচল করছেন। এলইডি আলোর রশ্মি এতই বেশি যে তার বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের চালক বা পথচারীদের সরাসরি চোখে পড়ে। এ সময় চোখে দেখতে না পেয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা।

ফুলবাড়ী জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক চন্দ্রনাথ গুপ্ত বলেন, সন্ধ্যার পর পথ চলাচলের সময় এলইডি লাইটের কারণে চোখে কিছু দেখা যায় না। দুর্ঘটনার মূল কারণ এখন এসব নিষিদ্ধ এলইডি লাইট। এদিকগুলোতে সংশ্লিষ্টদের কোনো নজর নেই। তাদের নজরদারী অত্যান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, অবৈধ এসব যানবাহনের আলোর গতি সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক বেশি। এ জাতীয় লাইটের আলো সামনে পড়লে দুই-তিন মিনিট চোখে কিছুই দেখা যায় না। তা ছাড়া বেশির ভাগ সময় লাইটগুলো উঁচু (হাই) করে দেওয়া থাকে।

এতে চালক ও সাধারণ মানুষের পথ চলতে চরম অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। এ কারণে সড়ক পারাপারের সময় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। বিষয়টি জরুরিভাবে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

ইজিবাইকের চালক মো. ঝিনুক বলেন, ইজিবাইক কেনার সময় গাড়ির সঙ্গে যে লাইটটি ছিল সেটি ভালো ছিল। কিন্তু সেটি নষ্ট হওয়ার পর স্থানীয় দোকানদারেরা বর্তমানে লাগানো এলইডি লাইট বিক্রি করেছেন। এটির আলো একটু বেশি চোখে ধরে।  

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তাফিজার রহমান বলেন, পাগলু, নসিমন, করিমন, রিকশাভ্যানসহ যা আছে এগুলোর মহাসড়কে চলাচলের কোনো আইন নেই। এসব যানবাহন তো অবৈধ। এসব যানবাহনসহ অন্য যেগুলোতে এলইডি লাইট লাগানো আছে, সেগুলো বন্ধ করার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বলেন, যানবাহনে ব্যবহৃত এলইডি লাইট মানুষেরচোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। এই লাইটের প্রভাবে সরাসরি চোখের রেটিনার কর্মক্ষমতা কমে যায়। ফলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে শুরু করে।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ্ তমাল বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে এলইডি লাইট ব্যবহার বন্ধ করার জন্য বিধিমোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
অন্ধ বাউল প্রদীপ পালের পাশে কেন্দুয়ার ইউএনও

অন্ধ বাউল প্রদীপ পালের বাড়িতে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী প্রদীপ পালের হাতে তুলে দেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ


মন্দিরার তালে তালে জীবন চলে অন্ধ বাউল প্রদীপ চন্দ্র পালের । তিন দিন ব্যাপী জালাল মেলার গানে ভাগ্য বদল হতে চলছে প্রদীপ পালের পরিবারের। নগরে বন্দরে হাটে বাজারে গান গেয়ে সংসার চলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নগর বাউল প্রদীপ চন্দ্র পালের। পিতা তপন চন্দ্র পালের মৃত্যুর পর মা বাসনা রানী পালকে সাথে নিয়ে চলে প্রদীপের জীবন সংসার।

আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে হাতে তুলে নেন এক জোড়া মন্দিরা বা জুড়ি। অন্ধ বাউল প্রদীপ বিভিন্ন হাট বাজারে গিয়ে মন্দিরা বাজিয়ে বাজিয়ে মানুষকে গান শুনান, এই গান শুনে মানুষও মানবিক কারণে তাকে ১০ টাকা, ৫ টাকা, ২০ টাকা কিংবা ৫০ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। ওই টাকা দিয়েই চাল, ডাল, মাছ, তরিতরকারি নিয়ে বাড়ি ফিরেন প্রদীপ।

অন্ধ বাউল প্রদীপ পালের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তার অফিসে এভাবেই জড়িয়ে ধরেন ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার

অন্ধ বাউল প্রদীপ পালের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তার অফিসে এভাবেই জড়িয়ে ধরেন ইউএনও ইমদাদুল হক তালুকদার

প্রায় ২৫ বছর আগে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়ের টংটঙ্গিয়া গ্রামের মৃত হরেন্দ্র চন্দ্র দাসের কন্যা আন্না রানীর সাথে বিয়ের পিড়িতে বসেন তিনি। বিয়ের পর দুই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। বড় কন্যা তৃপ্তি রানী পাল ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার  মাইঝবাগ পাছপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট কন্যা কৈশী রানী পাল সান্দিকোনা স্কুল এন্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

প্রদীপ পালের বয়সের কথা জানতে চাইলে সোজা কথায় উত্তর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সনের সংগ্রামের তিন বছরের বড় আমি। ১ ভাই এবং ৮ বোনের মধ্যে তিনিই বড়। বাবা না থাকায় বোনদের বিয়ের দায়িত্ব পড়ে প্রদীপ পালের কাধে। জন্মান্ধ প্রদীপ পাল ১ জোড়া মন্দিরা হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন ঘর থেকে। এই মন্দিরা বাজিয়ে বাজিয়ে নগরে বন্দরে হাটে বাজারে গান পরিবেশন করেন তিনি। এই উপার্জিত অর্থ দিয়েই ৮ বোনের বিয়ে দেন।

অন্ধ বাউল শিল্পী প্রদীপ চন্দ্র পালের পরিবারের স্বচ্ছতা ফেরাতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ তার বাড়িতে ছুটে যান

অন্ধ বাউল শিল্পী প্রদীপ চন্দ্র পালের পরিবারের স্বচ্ছতা ফেরাতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ তার বাড়িতে ছুটে যান

মানবিক সমাজের লোকজন প্রদীপ পালের প্রতি সদয় হয়ে তাকে আর্থিক ভাবে  সহযোগিতাও করেন। মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা তার পরিবার কোন মতে চলে আসছিল। জীবন ও সমাজের সাথে যুদ্ধ করে এগিয়ে চলছেন নাগরিক বাউল প্রদীপ পাল। কিন্তু কখনও কোনদিন হতাশ হননি তিনি। তার পৈতৃক ভিটার মধ্যে ১২ শতাংশ ভূমি রয়েছে। কিন্তু অর্থাভাবে সেই ভিটেটে বসবাসের জন্য একটি ঘর করতে পারছিলেন না।

লোক শিল্পী আব্দুল কদ্দুছ বয়াতি ও বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে খবর পান তথকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মইনুদ্দিন খন্দকার। তিনি খোজ খবর নিয়ে প্রদীপ পালের ভিটেটে সরকারী খরচে একটি আধা পাকা ঘর করে দেন। কিন্তু ঘরে বিদ্যুৎ , পানি, টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় অন্য এক বাড়িতে আশ্রয়ে থাকেন তিনি। এভাবেই সুখ দুঃখে খেয়ে না খেয়ে কোনমতে চলছে প্রদীপের সংসার।

চলতি বছরের গত ২৫, ২৬, ২৭ এপ্রিল কেন্দুয়ায় অনুুষ্ঠিত হয় জালাল মেলা। মরনোত্তর একুশে পদক পাপ্ত-২০২৪ আন্তসন্ধানী মরমী বাউল সাধক জালাল উদ্দিন খাঁর ১৩০ তম জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত জালাল মেলায় আমন্ত্রিত হয়ে অন্যান্য বাউলদের সাথে মেলায় গান পরিবেশন করতে আসেন প্রদীপ চন্দ্র পাল।

মেলা উদযাপন কমিটির আহবায়ক কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদারের নজরে পড়েন প্রদীপ পাল। তিনি প্রদীপ পালের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তার পরিবারের যাবতীয় দায়দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের কাধে তুলে নেন। গত ২ মে বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি আলপথ দিয়ে হেটে ছুটে যান নগর বাউল প্রদীপ চন্দ্রের বাড়িতে। কথা বলেন পরিবারের সকল সদস্যদের সাথে।

এসময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: রাজিব হোসেন, নেত্রকোণা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কেন্দুয়া জোনাল অফিসের ডিজিএম মো: মুজিবুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আজিজুর রহমান সহ স্থানীয় গনমাধ্যম কর্মীরা। পরিবারের সমস্যার কথা শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমদাদুল হক তালুকদার ঘোষনা দিয়ে বলেন, আজ থেকে প্রদীপ চন্দ্র পালের আর কোন দুশ্চিন্তা করতে হবে না। তিনি সচ্ছল জীবন যাপন করবেন। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রদীপ পালের হাতে একটি খাদ্য সামগ্রীর বস্তা তুলে দেন।

এছাড়া তিনি ১০ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ, নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা, একটি টয়লেট নির্মাণের পূর্ণ আশ^াস দেন। তাছাড়া দুই কন্যা যে দুটি বিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করে সেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে চিঠি পাঠান যাতে করে প্রদীপ পালের কন্যারা বিনা পয়সায় লেখাপড়া, স্কুল ড্রেস, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ বিনা মূল্যে পেতে পারে। অপর দিকে প্রদীপ পালের স্ত্রী আন্না রানী পালকে উপজেলা সদরে মাসব্যাপী সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে তাকে একটি সেলাই মেশিন দিয়ে সাবলম্বী হওয়ার পথ ধরিয়ে দেবেন।

স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মীদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিদিনের সংসার পরিচালনার জন্য সাহিতপুর বাজারে প্রদীপ পাল কে একটি মুদি দোকান স্থাপন করে দেবেন। যাতে এই দোকানের আয় দিয়ে তার সংসার চলে। এসব ঘোষনার পর প্রদীপ পাল বলেন, অনেক ইউএনও স্যার দেখেছি কিন্তু কেউই এভাবে আমার বাড়িতে খোজ খবর নিতে আসেননি।

পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো: মুজিবুর রহমানের সাথে শনিবার বিকালে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সম্ভবত উপজেলা প্রশাসন থেকে আগামীকাল বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদনটি পাব। আবেদন পাওয়ার পর ৭ দিনের মধ্যেই আমরা প্রদীপ পালের বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বাড়িতে আলো জ¦ালিয়ে দেবো।

স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মীরা বলেন, আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদক্ষেপের ফলে প্রদীপ পালের পরিবারটি অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথ ধরে এগিয়ে যাবে।



নিজস্ব প্রতিনিধি May 06, 2024
আটপাড়ায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু

আটপাড়ায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু

 

নেত্রকোনার আটপাড়ায় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে দিলোয়ার মিয়া (৩৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে উপজেলার স্বরমুশিয়া হাওরে বজ্রপাতে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষক দিলোয়ার মিয়া উপজেলার স্বরমুশিয়া গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাওহিদুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ওই কৃষক সকালে নিজের জমির ধান কাটতে গেলে বজ্রপাতে আহত হন।

পরে অন্যরা উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি May 04, 2024
ডা. এজাজুল ইসলাম

ঈদুল ফিতরে দেশের শতাধিক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া ‘রাজকুমার’ এখনো প্রদর্শিত হচ্ছে। দেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার ৭৫টি প্রেক্ষাগৃহেও ছবিটি প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবিতে ‘সিগন্যাল ভাই’ নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ডা. এজাজুল ইসলাম। এর বাইরে অন্যান্য কাজ প্রসঙ্গে অভিনেতার সঙ্গে কথা বলেছেন মনজুর কাদের


কেমন আছেন?

ডা. এজাজুল ইসলাম : ভালো আছি। গাজীপুর চেম্বারে আছি। রোগী দেখার ফাঁকে একটু অবসর পেয়ে খেতে বসলাম।

খাবার শেষ করেন তাহলে, পরে কথা বলি।

ডা. এজাজুল ইসলাম : না না, কথা বলা যাবে। আমি সারা দিন রোগী দেখে, ১০ মিনিটের ছুটি নিয়ে এইমাত্র খেতে বসছি। সামনে ভাত, এক হাতে প্লেট, আরেক হাতে ফোনে কথা বলছি—যেহেতু শুরুতেই অভিনয়ের প্রশংসা করলেন ... সত্যি বলতে, অভিনেতা যদি প্রশংসা শোনে, এমনিতেই পেটটা ভরে যায়। মনে হচ্ছে, ক্ষুধাটা কমে গেল। কথা এখন বলাই যায়। তবে দুঃখটা কী জানেন?

ডা. এজাজুল ইসলাম
ডা. এজাজুল ইসলাম
ছবি : ডা. এজাজের ফেসবুক পেজ


কী দুঃখ বলেন তো শুনি?

ডা. এজাজুল ইসলাম : দুঃখটা হচ্ছে, হুমায়ূন (আহমেদ) স্যার চলে যাওয়ার পর, আমি সিনেপ্লেক্সের দর্শকের কাছে একেবারেই নাই। কোনো ভালো নাটক, ভালো সিনেমায়ও নাই। হুমায়ূন স্যারের মৃত্যুর পর অভিনয় করছি ঠিকই, কিন্তু কোনো বৈচিত্র্য নাই। একই রকম গল্প, একই সবকিছু। এ নিয়ে আমার প্রচণ্ড হতাশাও ছিল। ভালো কাজ করতে পারিনি। এর মধ্যে আমি যত নাটক আর সিনেমায় কাজ করেছি, কেউ ফোন করে বলেনি, আপনার অভিনীত চরিত্রটা ভালো হয়েছে। অভিনয় দুর্দান্ত ছিল। স্যার চলে যাওয়ার পর এই দুঃখ ছিল। ‘রাজকুমার’–এর পরিচালক হিমেল আশরাফের কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নাই, কারণ তিনি আমাকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছেন। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নাই, দেখা নাই, সাক্ষাৎ নাই—তবে ছবি নিয়ে প্রথম কথা বলতে যেয়ে বুঝেছি, হুমায়ূন স্যারকে অনেক শ্রদ্ধা করেন, অনেক ভালোবাসেন। আর এই কারণে হয়তো স্যারের হাতে গড়া শিল্পীকে তিনি ব্রেকটা দিয়েছেন। এটা হয়তো তাঁর জন্য কিছু না, কিন্তু আমার জন্য অনেক কিছু। অনেক বছর পর দর্শকের প্রচুর ফোন পাচ্ছি। পরিচালক আর অভিনয়শিল্পীরাও ফোন করছেন। এ রকম ফোনকল পেতাম যখন হুমায়ূন স্যারের নাটক প্রচারিত হলে বা ছবি মুক্তি পেলে।

আপনার কথায় মনে হচ্ছে, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর হিমেল আশরাফের ‘রাজকুমার’ আপনাকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলল।

ডা. এজাজুল ইসলাম : অবশ্যই। ‘রাজকুমার’ টিমের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নাই। হিমেল আশরাফ আমাকে সুযোগ দিয়েছেন, এ জন্য তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। বয়সে আমার চেয়ে অনেক ছোট হলেও তাঁর প্রতি অনেক শ্রদ্ধা, কারণ, হুমায়ূন স্যারকে অনেক শ্রদ্ধা করেন।  আমি তো হারায়ে গেছিলাম। হিমেলই আমাকে অনেক দিন পর ‘রাজকুমার’ দিয়ে সব শ্রেণির দর্শকের কাছে নিয়ে এসেছেন। আমার একটা বদভ্যাস, গড়পড়তা কাজ সব সময় ফিরায়ে দেই। আজও দিয়েছি একটা সিরিয়াল। গতকালও দিয়েছি। যেসব কাজ রানিং করছি, সেগুলোও করতে ইচ্ছা করে না।  তৃপ্তি না নিয়ে আর কত কাজ করব! পারা যায় না তো। যেটা হয়, যাই, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়, সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হয়—ওইটাই ভালো লাগা। কিন্তু অভিনয় করে ভালো লাগা হুমায়ূন স্যারের পর ‘রাজকুমার’–এ পেয়েছি। পরিচালকেরও সেই বিশ্বাস ছিল যে হুমায়ূন আহমেদের শিল্পী, তিনিই চরিত্রটার প্রতি সুবিচার করতে পারবেন।


‘সিগন্যাল ভাই’ চরিত্রের প্রস্তাব প্রথম কীভাবে এসেছিল আপনার কাছে?

ডা. এজাজুল ইসলাম : পরিচালক হিমেল আশরাফের সহকারী অভ্র মাহমুদ ফোন করে এ রকম একটা চরিত্রের কথা বলল। শুনেই আমার বেশ ভালো লাগে। মনে হয়েছে, অনেক ভালো একটা চরিত্র হবে। তারপর বললাম, করব তো। এরপর বলল, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ দিন শুটিং কিন্তু। আমি ভাবলাম, হুমায়ূন স্যারের মৃত্যুর পর অনেক বছর তো চেম্বারও মিস দেই না। এ রকম একটা চরিত্রের জন্য ১৫-২০ দিন সময় বের করাই যায়। চরিত্রটা আমাকে মুগ্ধ করে। এরপর একদিন পরিচালকের সঙ্গে দেখা, তাঁর অফিসে। আড্ডা দিলাম। প্রথম দিনই তাঁর ভাবনাচিন্তায় মুগ্ধ হলাম। হুমায়ূন স্যারের গুণগান শুরু করলেন, এর পর থেকেই তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাও অব্যাহত। তারপর আমাকে পুরো গল্প আর চরিত্রটা শোনালেন। গল্প শুনেই বলেছি, ‘রাজকুমার’ ছবিটি দর্শক দেখবেনই। সেদিন যে তাঁকে খুশি করে বলি নাই, এটা আজ প্রমাণিত। দর্শক তো সিনেপ্লেক্সে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। তিন সপ্তাহ চলছে, শুনেছি এখনো হাউসফুল যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘রাজকুমার’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে ডা. এজাজুল ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘রাজকুমার’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে ডা. এজাজুল ইসলাম
ছবি : ডা. এজাজের ফেসবুক পেজ

এই চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে কতটা এগিয়ে নিতে পেরেছেন বলে মনে করছেন?

ডা. এজাজুল ইসলাম : আমার মনে হয়, ‘রাজকুমার’ দিয়ে আবার অভিনয়ে প্রাণ পেলাম। করার পরও ভাবছিলাম, সারা দেশ ও সারা পৃথিবীর মানুষ ছবিটা দেখে বলবে, ও, এ তো বাঁইচা আছে এখনো, মরে নাই তো। অনেকেই ভাবছিলেন, আমি মারাই গেছি। শুনতে অন্য রকম মনে হলোও, অবস্থাটা তেমনই। যে বাঙালি কানাডা, অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইউকে ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন, তাঁদের সঙ্গে তো আমার দেখা হয় না। তাঁরা তো বাংলাদেশের এসব সিরিয়াল দেখেনও না। এমনটা ভাবতেই পারেন, মারাই গেছি। শুটিংয়ের সময় ও এরপর আমি অনেককে বলেছি, এই ছবি মুক্তি পর ওই সব দেশের বাঙালিরা বলবেন, আরে এই ব্যাটা তো মরে নাই, এই ব্যাটা তো বাঁইচা আছে। (হাসি)।


বলছিলেন, ছবিটি মুক্তির পর অনেকেই ফোন করছেন। ফোনে তাঁদের কাছ থেকে কোন কথাটা বেশি শুনতে হচ্ছে?

ডা. এজাজুল ইসলাম : সবাই বলছেন, এত পরিমিত অভিনয় করছেন, পরিশীলিত অভিনয় করেছেন এবং রিয়েল কমেডিটা করার চেষ্টাও করেছেন। আমরা তো কমেডিটা ঠিকমতো করতে পারি না—ভাঁড়ামি হয়ে যায়, অতি অভিনয়ের দিকে চলে যায়। পরিমিত, পরিশীলিত  কমেডি কিন্তু হয়ই না। একজন পরিচালকও বোঝেন না, হোয়াট ইজ কমেডি।  সবাই ভাবেন যে কমেডি মানে জোকারি। কমেডি মানে ভাঁড়ামি। কমেডিয়ান মানে হচ্ছে জোকার। আসলে কমেডিয়ান যে গ্রেট অ্যাক্টর, সে যে জোকার না, ভাঁড় না, এটা অনেকেই বোঝেন না। হিমেল আশরাফ একটা বাচ্চা ছেলে, কিন্তু তাঁর যে পরিমিতিবোধ, তার যে দুর্দান্ত কমেডি লেখার দক্ষতা, ‘রাজকুমার’–এ অভিনয় করে আমি জীবন ফিরে পেয়েছি আবার। এমন কথাও শুনছি। আমিও এটা মানছি।

বিনোদন অঙ্গনে ডা. এজাজ নামে পরিচিত জনপ্রিয় অভিনেতা এজাজুল ইসলাম
বিনোদন অঙ্গনে ডা. এজাজ নামে পরিচিত জনপ্রিয় অভিনেতা এজাজুল ইসলাম
ছবি: ফেসবুক থেকে
 

নতুন কোনো ছবিতে কাজ করছেন?

ডা. এজাজুল ইসলাম : নতুন ছবির কাজ করছি না। সেদিন ‘রাজকুমার’ দেখা শেষে আমার অভিনয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে, অনিমেষ আইচদা বললেন, নভেম্বরে একটা ছবির শুটিং করবেন। আমার জন্য একটা চরিত্র রাখবেন। তাঁর সেই ছবি অবশ্যই করব।


আপনি তো ব্যস্ত  চিকিৎসক। এরপরও অভিনয়ের জন্য যে সময় বের করেন, তা কোন তাগিদ থেকে?

ডা. এজাজুল ইসলাম : এটা পুরোপুরি শান্তি থেকে। আমি অভিনয় করে শান্তি পাই। রোগী দেখেও শান্তি পাই। আরেকটা কাজ করে শান্তি পাই, তা হচ্ছে সংসার। বাসায় যখন বউ–বাচ্চাদের কাছে ফিরি, তাদের সঙ্গে কথা বলি, অন্য রকম শান্তি কাজ করে। এই তিন মিলিয়ে আমার জীবন। তিনটাতেই আল্লাহপাক আমাকে এখনো শান্তিতে রেখেছেন। অভিনয়ে তো আমি মরে গিয়েছিলাম, হিমেল আশরাফের উছিলায় আল্লাহপাক আমাকে আবার বাঁচিয়ে তুলেছেন।

‘রাজকুমার’ কি সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছেন?

ডা. এজাজুল ইসলাম : এখনো দেখিনি। যেভাবে সবার কাছ থেকে শুনেছি, মনে হচ্ছে এখন যদি হলে যাই, তাহলে অন্যান্য দর্শকের ডিস্টার্ব হবে। মনোযোগ দিয়ে ছবি দেখতে পারবেন না। দেখা যাবে, আমাকে দেখে দর্শকেরা ছুটে আসবেন, মনোযোগ দিয়ে ছবিটা দেখার যাঁদের ইচ্ছা, তা তাঁরা পারবেন না। তাই ভেবেছি, ছবিটি দেখব, আরও কিছুদিন দর্শকেরা নির্বিঘ্নে দেখুক, তারপর। আমার পরিবারের মধ্যে বড় মেয়ে অবশ্য ছবিটা দেখেছে।


দেখে কী বলেছে?

ডা. এজাজুল ইসলাম : আমার বড় মেয়ে তো চিকিৎসক। সে সাধারণত হুমায়ূন স্যারের কাজের বাইরে আমার অভিনয়ের প্রশংসা কখনোই করে না। ওরা কয়েকজন মিলে ‘রাজকুমার’ দেখেছে। দেখার পর এই প্রথম হুমায়ূন স্যারের বাইরে কোনো কাজের প্রশংসা করল। বলেছে, ‘“রাজকুমার”–এ তোমার অভিনয় ভালো হইছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘রাজকুমার’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে ডা. এজাজুল ইসলাম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ‘রাজকুমার’ ছবির শুটিংয়ের ফাঁকে ডা. এজাজুল ইসলাম
ছবি : ডা. এজাজের ফেসবুক পেজ

আপনার পরিবারের খবর বলুন।

ডা. এজাজুল ইসলাম : স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলেকে নিয়ে আমার পরিবার। বড় মেয়ে তাসফিয়া এজাজ, ছোট মেয়ে তাসনুভা এজাজ। দুজনই চিকিৎসক। বড় ছেলে শাহ মোহাম্মদ আবদুর রাফেও চিকিৎসক। ছোট ছেলে শাহ মোহম্মদ আবু বাকার সিদ্দিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে এখন হাঙ্গেরির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল করছে। আর আমার স্ত্রী লুৎফুন নাহার সিদ্দিকা, গৃহিণী, আমাদের সবাইকে আগলে রেখেছে।

ডা. এজাজুল ইসলাম
ডা. এজাজুল ইসলাম
[random][fbig2][#e74c3c]
Powered by Blogger.